শিশুদের মেধা বিকাশ এর ৫টি সহজ পদ্ধতি জানুন
মেধা বিকাশের জন্য আমরা নানা রকম পদ্ধতি ব্যবহার করলেও সঠিক নিয়ম আমরা অনেকেই জানি না। স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার জন্য আমাদের শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুকে আগামী দিনের জন্য যোগ্য করে তোলার জন্য তাকে মেধায়, শারীরিভাবে বিকশিত হতে হবে।
সুস্থ শিশু বলতে আমরা শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ সবল শিশুকেই বোঝায় না, শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবে শিশুকে সুস্থ রাখা প্রয়োজন হয়।
সাধারণত আমরা শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্য বিকাশের জন্য যত বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকি, মানসিক বিকাশের জন্য ততটা মনোযোগ
দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে থাকি না। কিন্তু মানসিকভাবে সুস্থ না হলে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভবপর হয় না।
অনেকে শিশুর মেধা বিকাশের জন্য কিছু পুষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ানোর কথা বলে থাকেন।
তারা সিজনাল ফলমূল, তাজা শাক সবজি নিয়মিত খাওয়ানোর কথা বলে থাকেন।
আবার অনেকে বলে থাকেন শিশুকে তার সহায়ক পরিবেশের সাথে মিলে মিশে নিয়মিত চর্চা করলে তার মেধা বিকাশে কাজে লাগে। নিচে শিশুদের মেধা বিকাশ এর ৫টি সহজ পদ্ধতি জানুন
সুস্থ পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রয়োজন
একটি শিশু যখনই বড় হয়, তখন চারদিকের পরিবেশর উপাদান তাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে থাকে এবং তার প্রতিফলন ঘটে তার ব্যক্তিত্বের উপর।
শিশু তার সামগ্রিক বিকাশ এর সঙ্গে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা নিবিড়ভাবে জড়িত করে থাকে। আজকের শিশু ভবিষ্যতের নাগরিক হবে এটাই সাভাবিক।
তাই শিশুর সুন্দর ও নির্ভয় শৈশব নিশ্চিত করার জন্য তার দায়িত্ব মা–বাবা এবং পরিবারের সব সদস্যের উপর আছে।
শিশুরা পড়ার সময় তার পরিবেশ অনুকূলে রাখা বাধ্যতামূলক রাখা। ঘরে মধ্যে শিশুরা পড়ার সময় টেলিভিশন চালু রাখলে বা সে দেখতে যা পছন্দ করে তা দেখলে তার পড়ার মনোযোগ বসবে না।
আবার পড়ার সময় অন্য শিশুরা খেলাধুলা করছে। সে বুঝতে পারছে যে তারে জোড় করে পড়ান হচ্ছে তখন সে শত চেষ্টা করেও পড়ায় মনোযোগ এবং মেধার বিকাশ ঘটবে না।
তাই শিশুর মেধা বিকাশের জন্য “সুস্থ পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রয়োজন”।
সৃজনশীল খেলনার ব্যবস্থা করা
শিশুদের খেলনা হওয়া দরকার আবিষ্কারধর্মী, শিক্ষণীয়, এবং সৃজনশীল ও উপকারী।
বয়স ও বুদ্ধিভেদে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপযোগী খেলনা নির্বাচন করা প্রয়োজন যতনের সঙ্গে।
কিছু ঘরে খেলা যায় এমন খেলনা আর কিছু ঘরের বাইরে খেলা যায় এমন খেলনাগুলো শিশুর মানসিক বিকাশে বেশি সহায়তা করে থাকে।
শিশুকে এমন ধরনের খেলনা দিতে হবে, যা তার বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে থাকে বহুগুণ।
আজ কাল বুদ্ধি বাড়ায় এমন খেলনা বাজারে অনেক পাওয়া যায়। শিশুকে বাজার থেকে বুদ্ধি এবং মেধা বাড়ায় এমন খেলনা কিনে দিলে তার মেধা বাড়াতে সাহায্য করবে।
০ থেকে ১ বছর শিশুদের জন্য
উজ্জ্বল রঙ বেরঙের খেলনাগুলো, সুন্দর শব্দ করা বা মিউজিক্যাল খেলনাগুলো এ বয়সের জন্য সবচাইতে বেশি উপযোগী হিসাবে কাজ করে।
১ থেকে ২ বছর
নানা রকম ভাসমান খেলনা, রঙ্গিন বই মানে যেসব বইয়ের পাতা শক্ত হয় এবং প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো থাকে সেজন্য সে সহজে ছিড়ে ফেলতে পারবে না,
ঐ ধরনের বই দিলে শিশু খেলার মাধ্যমে নানা রকম ফুল, ফলমূল, পশু, পাখি সহজে চিনে নিবে। বিভিন্ন রকম রাবার বা
প্লাস্টিক এর ব্লক দেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ইজি পাজেল এসব তার সৃজনশীল বাড়াবে সহায়তা করে।
৩ থেকে ৪ বছর
সুনন্দ সুনন্দ রঙ পেন্সিল, কিছু আর্ট কপি, চালানোর মত খেলনা গাড়ি বা রকিং ঘোড়া, বল এসব যা তার হাত ও পায়ের পেশী শক্তি বাড়ায়।
তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী খেলানার চাহিদা পরিবর্তন হয়ে থাকে। নতুন নতুন খেলনা দিয়ে খেলতে সে ভালবাসে।
ছবি আঁকার ব্যবস্থা করা
দীর্ঘদিনের গবেষণায় মাধ্যমে জানা যায় যে, শৈশবে শিশু যদি ছবি আঁকার সুযোগ পায়, তাহলে সে মেধাবী ও বুদ্ধিমান হয়ে থাকে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শিল্পচর্চা হলো এমন একটি মাধ্যম যা শিশুদের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
নতুন বা সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে শিশু যখন বিভিন্ন ভাবে শিল্পচর্চার সুযোগ পেয়ে থাকে, তখন তার সৃজনশীলতাও বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
সে অসাধারণ ভাবে তার ভাবনা ও চিন্তা করতে শেখে, যা তাকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে অনেক সহজ হয় এবং যে কোনো পরিস্থিতির মধ্যে ও সে তখন সহজেই সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
অনেক শিশু আছে যারা ছোট থেকে ভাল ছবি আঁকার প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে। তার মাধ্যমে সে ছবি আঁকার জন্য বেশি মনোযোগি হয়। সে তার চারপাশের প্রকৃতি, জীবন আচরণ নিয়ে আঁকতে পছন্দ করে।
তাই শিশুদের ছবি আঁকতে দিলে তার মনের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য শিশুদের ছবি আঁকার ব্যবস্থা করা একটি ভাল পদক্ষেপ বলে বিবেচিত।
ব্যায়াম ও ধর্মের সংগীতচর্চা
ছোট ছোট কিছু ব্যায়াম আছে যা শরীর ও মন উভয় ভাল রাখে। ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের রক্ত চলাচল ভাল রাখে। মন ও ফুরফুরা করে।
অনেকে সুখে-দুঃখে বিভিন্ন ধর্মের সংগীত গেয়ে আমাদের মনোরঞ্জন করে থাকেন, তেমনি শৈশব বেলো থেকেই শারীরিক এবং মানসিক কিছু কাজের ওপরেও রয়েছে সংগীতে এর নিবিড় প্রভাব।
সেজন্য শিশুকে একেবারে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে পরিচয় করানো জরুরি অনেকের ধারণা। সংগীত ও ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে থাকে।
ভালো সংগীত শুনে থাকলে মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন নামের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়ে থাকে, যা কোনো কিছু শেখার জন্য শিশুকে আগ্রহী করে থাকে।
বই পড়ার মাধ্যমে মেধা বিকাশ
বই কে সকল জ্ঞানের মাধ্যম বা ধারক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বই এমন পরম বন্ধু যা উপকার ছাড়া অপকার হয় না।
বই শিশুর মনে সুপ্ত ভাবনাকে বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে থাকে। এক সময় দাদি, খালা এবং মায়ের মুখ থেকে নানা রকম গল্প শুনে সময় কাটাতে ভালবাসতো শিশুরা।
এখন আর এ ধরণের বিষয় হয়েছে ব্যতিক্রম ঘটনা। আগেকার সেসব গল্পগুলো শিশুরা এখন আর শুনতে পারে না।
শিশু তার শুরু বয়স থেকেই তাই শিক্ষামূলক নান ধরণের বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলা প্রয়োজন হবে।
গল্পের বই পড়ার মাধ্যমে শিশুর মানসিক বিকাশ প্রসারিত হয়ে থাকে এবং মনের ভাব প্রকাশের ক্ষমতা বাড়ে অনেক গুণ।
যার ফলে শিশুরা বিভিন্ন জটিল শব্দ সমূহ এবং নানাবিধ বাক্য সহজে বুঝতে পারে নিজের দক্ষ্যতায়। এর মাধ্যমে তার পড়ার আগ্রহ বৃদ্ধি পায়ে থাকে, সেই সাথে বৃদ্ধি পায় শিশুর মূল্যবান বুদ্ধিমত্তা।
শিশুর সামগ্রিক বিকাশের জন্য শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশের দিকেও নজর রাখুন অত্যন্ত প্রয়োজনের সাথে। অভিভাবক হিসেবে এ দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে আপনাকে কোন দিধাদন্ত ছাড়া।
শিশুকে কাঁদা মাটির সাথে তুলনা করা হয়। কাঁদা মাটি যেমন খুঁশি আকার দান করা যায়। ঠিক তেমনি শিশুকে শুরু থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করলে তার ফল পাওয়া যায়।
আজকের কোন মেধাবী বা মহৎ মানুষ এক সময় কিন্তু সে ছোট ছিল। সে এমনেতেই হঠাৎ মহৎ হয়নি।
পিছনের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায় যে, তার সময়টা ছিল নিয়মিত রোটিনের মত। পড়া সে এ দিনেই সব মুখস্ত করে নাই।
তার বাবা মা বা শিক্ষক তার পিছনে অনের পরিশ্রম করেছে। পড়ার সময় পড়া, খেলার সময় খেলা, খাওয়ার সময় খাওয়া ছিল নিয়মিত।
তার মেধাকে বাড়ানোর জন্য কখনই সে ফাঁকি দেয় নি। যদি এক সময় কম পড়লে অন্য সময় ঠিকই তা আবার কভার করে নিত।
সবার চেষ্ঠার পাশাপাশি সে নিজেও তার চেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে ছিল।