পৃথিবীর একমাত্র বায়োনিক শিশু অলিভিয়া সম্পর্কে জানুন

পৃথিবীর সুপার হিউম্যান খ্যাত পৃথিবীর একমাত্র বায়োনিক শিশুর নাম অলিভিয়া

পৃথিবীতে এরকম মানুষ খুব কম সংখ্যকই আসে যাদের খিদে, ব্যাথা ও ঘুম আসে না। আর যেসব শিশুদের এই তিনটা গুণ যেমন, খিদে, ব্যাথ্যা ও ঘুম আসে না তাদেরকেই বলা হয় বায়োনিক শিশু। 

বায়োনিক শিশুদের বৈশিষ্ট্য অন্যন্যা শিশুদের থেকে একটু আলাদা। এরা অন্যদের মত না। এরা অনুভূতি শূন্য থাকে প্রায়। 

পৃথিবীর একমাত্র বায়োনিক শিশু অলিভিয়া সম্পর্কে জানুন

আমাদের দেশে এ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা আসলেও বর্তমান সময় এরকম শিশুর খোজ পাওয়াতে অনেক বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে বহিবিশ্বে। 

অলিভিয়ার জন্ম ইল্যান্ডে এবং সালটা হলো ২০০৯। তাকে পৃথিবীর একমাত্র বায়োনিক শিশু হিসেবে ধরা হয়। 

বায়োনিক শিশুর বৈশিষ্ট্য

বায়োনিক শিশুর বৈশিষ্ট্য তিনটি। যথাঃ- 
(ক) এদের খিদে পায় না। 
(খ) এদের ব্যাথা লাগে না। 
(গ) এদের ঘুম আসে না। 

উপরের তিনটা বৈশিষ্ট্যই লক্ষ্য করা যায় বায়োনিক শিশুদের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে বায়োনিক শিশুর সন্ধ্যান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। 

বায়োনিক শিশুদের এই তিনটা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সামান্য কিছু আলোচনা করা হলো নিচে। 

(ক) এদের খিদে পায় না

বায়োনিক শিশুদের ক্রোমোসোম এমন ধরনের যে, এরা না খেয়েই থাকতে পারে। জন্ম হওয়ার আগে এদের শরীরের DNA গুলো বারবার ভেঙ্গে এরকম একটা আজব বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে। 

তবে ডাক্তাররা বলেন যে, এই ধরনের শিশুরা যদিও খেতে চায় না বা এদের কখনই খিদে লাগে না। তারপরেও সময়মত রুটিন করে এদেরকে খেতে দিতে হবে । 

সময়মত যদি এদের খেতে দেওয়া না যায় তাহলে দেখা যাবে শরীরে পৃুষ্টির অভাবে সমস্যা তৈরি হয়েছে। 

(খ) এদের ব্যাথা লাগে না

বায়োনিক শিশুর আরও একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এদের ব্যাথা লাগে না। এরা কখনও শরীরে ব্যাথা অনুভূত হয় না। 

এরা জন্মগত ভাবেই ব্যাথ্যার কোন প্রভাব পড়ে না এদের শরীরে। একবার ২০১৬ সালের দিকে অলিভিয়া পড়ে গিয়েছিল। 

তারপর সে যখন তার মায়ের কাছে আসে তখন তার মা তার দিকে তাকিয়ে দেখেন যে, তার মেয়ের ঠোট কেটে রক্ত ঝরছে। 

এটা দেখে তিনি আশ্চর্য্য হয়ে উঠেন। অথচ অলিভিয়া সামান্য ব্যথাও পাচ্ছে না। সে বসে বসে তার জুতা ঠিক করছিল। 

তারপর তার মা যখন তাতে সার্জারি করার জন্য অপারেশান থিয়েটারে নিয়ে গিয়েছিল। তখনও সে কোন ব্যথা পায় নাই। 

ডাক্তারটা তাকে চিকিৎসার সময়টাতেও সে নাকি কোন প্রকার ব্যাথা পায় নাই। এটাই এই ধরনের শিশুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 

(গ) এদের ঘুম আসে না

বায়োনিক শিশুর তিন নাম্বার বৈশিষ্ট্য হলো এরা কখনও ঘুমায় না। এদের শরীরে এমন কিছু বা এমন কিছু হরমোন থাকে যে, এরা কখনও ঘুমাতে চায় না। 

অলিভিয়ার পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে গেলেও সে জেগে থাকতো। যেটা তার পরিবারের জন্য সমস্যার একটা কারণ হয়ে গিয়েছিল। 

দেখা যাচ্ছে যে, সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে অথচ তার সাথে খেলাধূলা করার জন্য একজন বসে থাকতে হতো। 

ডাক্তারদের মতে একটা শিশু বা একটা বয়সের জন্য যেই পরিমাণ ঘুম দরকার হয় সেই পরিমাণ ঘুম না আসলে তার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

কিন্তু অলিভিয়া নামক সেই বায়োনিক শিশুটা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুমাই না অথচ তার শরীরের উপর কোন প্রভাব ফেলে না। 

ডাক্তাররা তাকে ঘুমের ঔষধ দিতে চাইলেও তার বয়স দেখে সেটা দেওয়া থেকে বিরত খেকেছেন। ঘুম না আসা নিয়ে ডাক্তারদের গবেষণার কোন শেষ ছিল না একটা সময়। 

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বায়োনিক শিশুর মেজর কিছু বৈশিস্ট্য সম্পর্কে জানতে পারি। আশা করবো এই ধরনের তথ্যগুলো পাঠকদের নতুন কিছু জানার আগ্রহ তৈরি করবে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post